আমাদের প্রতিদিন ডেস্ক:: মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের ‘শ্যাডো কমান্ডার’ খ্যাত কাসেম সোলাইমানির মৃত্যুর পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের অবস্থান নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। ইরাকি পার্লামেন্ট দেশটি থেকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি সরিয়ে নেয়ার প্রস্তাব পাশ করেছে। যদিও তাতে কর্ণপাত করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান । বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহার না করা হলে, ঝুঁকিতে পড়বে মার্কিন ও ইউরোপীয় সেনারা।

বুধবার (১৫ জানুয়ারী) এমন হুঁশিয়ারি দেন ইরানি প্রেসিডেন্ট। ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তি মানতে দেশটিকে বাধ্য করতে ইইউ’র কৌশল গ্রহণের ঘোষণার মধ্যে এলো এমন হুমকি।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান টানাপোড়েনের মধ্য প্রথমবার মুখ খুললেন প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। প্রচ্ছন্ন হুমকি, মধ্যপ্রাচ্যে থেকে অবিলম্বে মার্কিন ও ইউরোপীয় সেনা প্রত্যাহার না করা হলে বাড়বে হামলার ঝুঁকি। পরমাণু চুক্তি মানতে বাধ্য করতে, ইইউ’র নতুন কৌশল ঘোষণার পরই এলো হুঁশিয়ারি।

রুহানি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে আজ অরক্ষিত মার্কিন সেনারা। হয়তো, আগামীকাল ইউরোপীয় সেনারাও হামলার মুখে পড়তে পারেন। যুদ্ধ-সংঘাত বাঁধিয়ে নয় বরং নিজ স্বার্থেই সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছি দেশগুলোকে। একইসাথে, আইআরজিসি’কে বলবো- গোটা বিশ্বকে আশ্বস্ত করতে বিমান দুর্ঘটনা এবং অভিযানের স্পষ্ট ব্যাখা দিন।

এর আগে, ইউরোপীয় জোটকে বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করেন জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ। বলেন- তেহরানকে চাপ দিলে; উল্টো বাড়বে আঞ্চলিক অস্থিরতা।

তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, জোরপূর্বক ইরানকে পরমাণু চুক্তি মানতে বাধ্য করে ইইউ কি আঞ্চলিক অস্থিরতা ছড়াতে চাচ্ছে? তাহলে, রাজনীতিকদের বলবো- এর ফলে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হবে যুদ্ধ, একইসাথে ক্ষতিগ্রস্ত হবে অর্থনীতি। গোটা বিশ্বে বাড়বে সন্ত্রাসবাদ। লিবিয়া আর সিরিয়া তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ।

এদিকে, ইউক্রেন-কানাডা যৌথভাবে বিমান ভূপাতিতের তদন্ত পরিচালনা করলেও, দেশগুলোর অভিযোগ- এখনো ব্ল্যাকবক্স ছাড়ছে না ইরান।

কানাডার পরিবহন মন্ত্রী মার্ক গারনিউ বলেন, ভূপাতিত বিমানটির ব্ল্যাকবক্স এখনো ইরানের হাতে। সেগুলোর তথ্য-উপাত্ত উদ্ধার এবং বিশ্লেষণ তদন্তকাজে আরও গতিশীলতা আনবে। বিমানের একটি ব্ল্যাকবক্সে পাইলট এবং কন্ট্রোল টাওয়ারের কথোপকথন রেকর্ডে রাখে। অন্যটিতে থাকে টেকনিক্যাল ডাটা।

বুধবার, ইউক্রেনের বিমান ভূপাতিতের নতুন ভিডিও প্রকাশ পায়। যেখানে দেখা যায়- একটি নয় বরং ইরানের ছোঁড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিধ্বস্ত হয়েছে বোয়িং বিমানটি। এ ঘটনায় প্রাণ হারান ১৭৬ আরোহীর সবাই।

Leave a reply

Please enter your comment!
Please enter your name here