1. redwanlkm30@gmail.com : NewsBangla :
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০, ০২:২১ অপরাহ্ন

সুন্দরের প্রতিচ্ছবি তুমি। কাব্যরুপ- রাশেদুল হাসান

রিপোর্টারের নাম
  • সময় বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২০
  • ১৪৪ জন নিউজটি পড়েছেন

রহস্যে ভরা মোহনীয়তা আমাকে বিমুগ্ধ করে খুব নীরবে,
একা, একলা থাকার সময় !!
আমি চমকে উঠি, একটা সুন্দর মুখের সাবলীল হাসিতে
সাহসের সাথে ঘুম ভাঙে আমার!!!

আমি জীবনের সাথে কথা বলে উঠি যৌবণের গন্ধে বিভোর হয়ে,
এই আচর্য শরীরী মানবী আমাকে দিরভর সুগন্ধের তালে ভুলিয়ে রাখে। প্রতিটি সন্ধ্যায়, মুখরিত হাসির মন জাগানো সুরে,
আলতু করে পাশে বসে….
কেমন মায়ায় যেন ছুঁয়ে থাকে।
কিছু না বলেই চলে যেতে চায় অচেনা অন্ধকারে, হঠাৎ পর মানুষের মত মিশে যায় অদেখা ব্যবধানে। মনভাঙা বিসর্জনে।

আমি আটকে রাখি মিষ্টি কথার গন্ধে, লাল পরী, নীল পরীর কাল্পনিক গল্পের ছন্দে।
আচঁল ধরে টেনে আনি বার বার,…
বিরল এক অদেখা অভিমানে, শরীরের ভেতরে শরীর মিশিয়ে,
সে কি পাষাণের মত করে কথা বলে ওঠে
আমাকে ভুল করেও আপন ভেব না,
মনের ভুলেও ভালোবেস না !!!

হঠাৎ কোন একদিন তোমায় না বলেই
চলে যাবো বহুদূরে, দিগন্তের শেষ দ্রাঘিমায়।
আমি আপন পুষতে পারি না,
আমি যে নিজেকে ছাড়া কাউকে ভালোবাসতে পারি না !!

বুকের ঘামের গন্ধে কেবলই হিংস্র শরীরের পারদ,
স্বাদের নৈরাজ্য শাসন করি লোভের খেয়ালে,
আমি শরীরের শহরে তাজা মাংসের গন্ধ পাই,
এপাশে ওপাশে, পাশের চাপা গলিতে,
মানুষ নামের মানুষ একটিও খুঁজে না পাই।

আমি ভেজা চুলের উড়া উড়ি নিষিদ্ধ ইশারায় প্রেমকে কাছে ডাকি,
বাঁধন ছেঁড়া একটুকরো সূতোর সন্ধান কেন জানি কোথাও না পাই।
ভালোবাসার আবদার ভুলে, শুধু শরীরটাতেই হবে কি তোমার?, আমার কঙ্কালের আবরণে জড়ানো মাংসপিন্ড,
তোমরা যারা এই গোপন গহীণ নরম আস্তরণের নাম দিয়েছ, অনাবিল শান্তির অপর নাম, সুখ।

একটা রাতের নিস্তব্ধ চাদরে আমার শরীর গোপনে ঢেকে,
কতই না আক্রোশে ডুবিয়ে রাখ নেশাতুর লাল চোখ,
ঘামে ভেজা কামুক কামড়ের জোরা দুটি ঠোঁট।
নাও, যত ইচ্ছে, যদি পাও খুঁজে দুমুঠো সুখ।
নাও, নিতে পারো যত চিরন্তন অচেনা রহস্যাবৃত মহাসুখ,
অবলীলায় উদাম আমার ভরাট পরিপুষ্ট নরম বুক।

প্রণয়ের প্রলাপে নয়, রুপসী আমি, নিজের সুন্দর মুখে নিজ হাতে আঁকি হরেক রকমের সুখ।
সে কি বিভোর মাতাল সব আবেগী উতলা সুখ, শিহরণ।
দক্ষিণা সমীরণে ফুলের সুবাসের সাথে অচেনা কেউ,
খুব ধীরে আমার হৃদয়ের কাছে এসে, বৃষ্টির মত করে ধুয়ে দিয়ে যায় উতপ্ত বুকে জমে থাকা যাতনা ক্রন্দণ।
মরুউদ্যানের মত পুড়ে যাওয়া বুক…
আমাকে বিশুদ্ধ বিবরণে ঘোষণা দিয়ে বলে যায়,
তুমি শুধু আমার, আমার আপন,
আমার চোখে ঘুম নিয়ে আসা একটাই প্রিয়মুখ।‍
ভালোথাকার একমাত্র কারণ!!

রুপসী আমি,
নিজের সুন্দর মুখে নিজ হাতে আঁকি হরেক রকমের সুখ।
সে কি বিভোর মাতাল সব আবেগী উতলা সান্নিধ্যমাখা সুখ।

কান্নারা চলে গেলে, জাপটে লেগে থাকি, অপলক চেয়ে থাকি, নিজেই দেখি নিজের প্রিয় মুখ।
আমি আমাকে বিকল প্রেমে ডুবিয়ে নয়,
রংধনুর থেকে রঙের বাহার এনে আঁকি নিজেকে,
আদর জানাই অজানায়,
নিজের ভেতরটা নিজেই ছুঁয়ে দেখি, মিথ্যে শান্তনার বাহানায়।
বাতাসের সাথে পাঠিয়ে দেই ঠিকানাহীন খামে,
বছরজুড়ে গুছিয়ে রাখা কিছু লজ্জাবতী প্রেমের পাখায়,
সাজানো পালক।
নোনাজলের অঝড় বৃষ্টিতে
কিছু অব্যক্ত যন্ত্রণার অকাল মরণ হয়,
আমরা যে স্ত্রীলোক!!

অনেক মুখোশের ভীরে,
আমারও একটা মানুষ নামের মুখোশ আছে,
নারী নয়, শরীরী দেবী নয়, তোমাদের দেয়া নাম, মহিলা, মাগী, মাইয়া, মাল কিংবা বিষাক্ত নাগীণ।
কখনও কোন সুপুরুষের সবল চিৎকারে শুনি, ৥মা৥
ও মা, বলে ডাকে, মায়াবতী মা।
নারী, তুমি তোমার অবয়বে বলতে পারো. আসলে তুমি কি?
মা, না মাগী? নাকি মাল!!
মনের পিপাসা মিটানো রসদ শুধু শরীরটাকেই
চিনে রাখে বিষন্ন পাষাণ এই মহাকাল।

আমি মানুষ, মাঝ দড়িয়ার মুখ লুকানো ঝিনুকের মত
অভিনয় করে যাই,
আমার ম্যাকাপে সুনিপুণ সুন্দরের কারুকাজ,
নিজেকে বদলে ফেলি পুরুষের সাথে তাল মিলিয়ে
সাজি নিত্য নতুন বাহারী রুপের সাজ।
আমাকে পাওয়া সহজ হবে না তোমার!!!
ফিরে যাও..তুমি।

এই প্রথম পরিচয়ে, আমার ঠিকানা মনে রাখার দরকার নেই,
যে বাসন্তী শাড়ীর আঁচলে তোমার নিশ্বাস মেখে দিয়েছো,
সেগুলি মনে মেখে, স্মৃতিতে গেঁথে সবকিছু ভুলে যাও!!!
আমাকে হয়ত পাবে না তুমি!!
ইচ্ছে হলে যখন খুশি চলে যাও…

আমার আলতা রাঙানো পায়ে গোপনে মেখে রেখেছি বিষ,
ঠোঁটের লিপিষ্টিকের রঙে মিশানো আছে গোপন বারুদ পোড়াগন্ধ, এই স্বাদহীন দুপুরে শরীর পোড়ানো তপ্ত রোদে,
ঘামটুকু চুষে নিতে, আমার নিথর দেহের একটু ক্লান্তি তুলে নিতে,
সত্যই পারবে তুমি? বিভোর ব্যাকুল আদর দিতে,
আমাকে একবার একটু ছুঁয়ে, বিশ্বাসের একটা স্পষ্ট ছাপ আমার শরীরের গন্ধে গুজে দিতে পারবে?
যার ভাঁজে ভাঁজে যন্ত্রণার কাঁটা সাজানো, লোমে লোমে ধারালো ব্যথার বিলাপ।
আমাকে কিভাবে পিঞ্জরের পিষ্ঠে একান্তভাবে পাবে তুমি?
বলতে পারো? কোন উত্তর আছে?

এতকাল জীবনের চৌচির বিষন্ন মাঠে অচেনা পুরুষের ফেলে যাওয়া প্রেম পুষেছি, কলিজায় ধরে রেখেছি স্বপ্নময় কতশত প্রশস্ত মাস,
দারুণ যত্নে কাঁজলের মত দুচোখে মেখেছি তাঁর প্রিয় মুখখানি,
ফাল্গুন/চৈত্রের প্রতিদিন, বছরের বারোটি মাস।

ভালোবাসার মায়ায় মিশিয়ে পিশিয়ে,
চলে গেছে সে আর ফেরেনি আমার ঘ্রাণে,
প্রাণের স্পন্দণের টানে…নীরব আহবাণে,
কতবার ডেকে ডেকে অবেলায় ঘুমিয়ে পড়েছি,
তবুও সে আসে নি, ভালোবাসার বেড়াজালে আমাকে বন্দী রেখে, বিষাদের জলন্ত চিতায় পুড়িয়ে, ভাল থাকে সে !!!
বোঝেনি, আমাকে মনের ভুলে, একটুও ভালোবাসেনি !!!
আমার শরীরের সুগন্ধ নিজ গতরে মেখে,
সেই চলে গেছে আর ফেরেনি,
আমার জমাট সত্য বিশ্বাসের ডাক শুনতে পায়নি,
পথের ভুলেও সে এ পথে আসেনি!!

কষ্টের বৃষ্টিতে কতবার ভিজে ভিজে এক টুকরো বিশ্বাস খুজেছি!!
কই? কোথাও তো দেখিনি, তাই বুঝি সুখের নাগাল পাইনি,
সুখ কি বুঝিনি, সাহস করে সুখের কাছে যাইনি।

একটু আস্থার শীতল বাতাস,
চলে গিয়ে আবার ফিরে আসার নিরেট আশ্বাস,
সাবলীল নিগাঢ় একটা বিশ্বাস, দেবে আমায়?
অজানা পথের প্রান্তরে জনমানবহীণ এই লোকালয়ে,
শরীরে ভাঁজে, খবরদার স্পর্শ নয় !!!
আমার অবিরাম জলন্ত বুকের বিভাজিকায়,
তোমার দুরন্ত নিশ্বাসের ছটফটে বাতাসটুকু দিয়ে,
শুধু একটু ছুঁয়ে দেখবে আমায় !!

আমি বিশ্বাসের নাম ধরে একটা সদ্য নতুন লেখা
বিরহের কবিতায় মুখ লুকাবো কাউকে না বলে,
ব্যথাতুর ভাষার আহত ফ্রেমে অচেনার তরে প্রেম পাঠাবো।
অবাধ্য কোন কবির বিরহী কবিতায়, ঠিক একদিন মুখ লুকাবো।

ভালোবাসার সাদা পোষাক পড়ে প্রতিদিন তোমায়,
বিদগ্ধ ভালোবাসা জানাবো, এতটুকুতে হবে তোমার?
কথা দিচ্ছি একটুকরো বিশ্বাসের বদলে,
তোমার প্রতিটি সকাল হবে সিগ্ধ আলোয় মাতানো।
উতলা ঢেউয়ের তালে ভিজবে তুমি,
পাবে অথৈ সুখের আলিঙ্গণ।
ভয় নেই, মিলিয়ে দেব সুখ নামের জটিল অংকের সমীকরণ।

অশান্ত শিহরণ ভরা শরীরের আহাজারিতে,
ছটফটে ক্ষুধার্ত চাহিদায় তোমার নামে লেখা হবে প্রতিটি কম্পণ,
মন ভুলানো দীর্ঘ সময় বুদ হয়ে থাকা শত শত চুম্বন।
চিরকাল উন্মাদের মত করে কাছে ডাকবো,
আঙুলের ভাঁজে আঙুল রেখে উত্তাপ কুড়াবো,
অনন্তকালের রোমান্সকর আঙিণায়, আমাকে পেতে চাও? নেবে?
শুধু আমার শরীরটাই কিন্তু একমাত্র পাবে !!
আমার ভেতরের আমিটা অজানা এক প্রিয়মুখের টানে
হঠাৎ কখনও ভুল ঠিকানায় হারিয়ে যাবে।
মেনে নিতে পারবে, কষ্টের পাহাড় ডিঙিয়ে,
আমাকে এমন করে দরদী সুরে কি তখনও চাইবে ?

এইতো আমার বিস্তারিত আমি, আমায় চলবে?

এই ছাই হয়ে যাওয়া পিঞ্জরে পুঁষে রাখা আহত পাখির জোড়া চোখ ভিজে যায় অযাচিত ব্যর্থ কান্নায়,
চিরতরে একান্ত তোমার করে নেবে আমায় ?
তবে আজ প্রাণখুলে পাগলীর মত হাসবো ভীষণ,
শুধু বিশ্বাসটুকু দেবে আমায়, সেই খুশিতে আজ নূপুর প্যেঁচিয়ে, তা থৈ নাচবো অনেকক্ষণ, যদি নিখাঁদ বিশ্বাসের পরশ পাই,
মহাশান্তির শ্রাবণে প্লাবিত হবে চৈত্রালী উত্তাপ,
ভিজে যাবে চাষাবাদহীন, আমার খাঁ খাঁ শূণ্য বুকে ঘুমিয়ে থাকা গোপন কত অব্যক্ত অভিশাপ।

আমার পোড়া দেহের গন্ধে ক্ষোভিত প্রেমের উন্মাদণা,
বিভাজনের অসুখে পড়ে আছে বিবাগী মন, মন্দিরা।
এমন করে বারংবার কেন? কোন নিশাণায় ডাকছো আমায়…
তাহলে শুধু শরীরটাই চাই কি তোমার?

তবে তাই হোক, এসো কাছে এসো…
ভীষণরকম উন্মুক্ত বাসনার আবেদনে ডাকছি তোমায়,
আমার শরীরের প্রতিটি ক্ষত চিহ্নে লুকিয়ে থাকে কষ্টদাগ,
নীল বেদনার যতসব বেনামী কলঙ্ক, মিথ্যে অপবাদ,
ভীষণ সোহাগে প্রতিদিন অন্তত একবার ছুঁয়ে,
দেখবে তো আমায়?
অনাহারী শিহরিত ছটফটে শরীর আজ বড় উন্মাদ!!
স্রোতের মত করে ভাঁসাও আমাকে এপিঠ, ওপিঠ…
আমায় নেবে তুমি? নাও…

বিশ্বাসটুকু উজার করে সকাল সন্ধ্যা পাবো তো আমি?
সত্যি আমার পুড়ে যাওয়া বুকের মোহণায়,
তোমার কচি কোমল স্বপ্নগুলি নির্ভয়ে রাখতে পারবে?
আর একটু ভেবে এসো,
আরও একটু ঘুরে উড়ে এসো অজানায়,
তোমার ক্লান্ত দেহের নিথর অবয়বে, আমায় লুকাবো আমি !!!
তখনও আমাকে নেবে তো তুমি?

কবিতাঃ অচেনা মায়ার টানে..
ঢাকা, সন্ধ্যা
১৯.০৪.২০২০ ইং।

ছবিঃ তিথি আপু, রুপকার্থ ব্যবহৃত।

আপনার ফেসবুক আইডিতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ পড়ুন
© All rights reserved © https://inewsbangla.com
Theme Customization BY TVSite.Com